Thursday, February 5, 2015
বাংলার প্রান্তর: ডায়াবেটিসের ম্যাজিক পিলসমকাল ডেস্কডায়াবেটিসের একটি...
বাংলার প্রান্তর: ডায়াবেটিসের ম্যাজিক পিলসমকাল ডেস্কডায়াবেটিসের একটি...: ডায়াবেটিসের ম্যাজিক পিল সমকাল ডেস্ক ডায়াবেটিসের একটি ম্যাজিক পিল আবিষ্কার করে ফেলেছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, প্রতিদিন নিয়মিত পিল...
ICC World Cup 2015 Schedule Shares With Your Friends And Like Our Official Page Cricket World Cup Live Stream
Monday, February 2, 2015
মুঠোফোনে মোট ১১ কোটি ৮৪ লাখ ৯৩ হাজার গ্রাহকের মধ্যে পাঁচ কোটি দুই লাখ ৯১ হাজার হলো গ্রামীণ ফোনের। ছয়টি মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শীর্ষ অবস্থান বিষয়ে কথা হয় গ্রামীণফোনের হেড অব ইন্টারনাল কমিউনিকেশন সৈয়দ তালাত কামালের সঙ্গে। তিনি জানান, গ্রামীণফোন শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রাহকদের ভয়েসসেবা এবং ইন্টারনেট বিস্তারের ক্ষেত্রে ‘সবার জন্য ইন্টারনেট’ কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে।
বর্তমানে মুঠোফোন সেটের বাজারে শীর্ষে রয়েছে সিম্ফনি। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সেটের মধ্যে ৬০ শতাংশই সিম্ফনি। প্রতিষ্ঠানটির বিপণন পরিচালক আশরাফুল হক জানান, ‘বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আমরা জোগান দিতে পারি। আমাদের রয়েছে দক্ষ সেবার নিশ্চয়তা। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী গবেষণা করে বাজারে মুঠোফোন সেট ছাড়া হয়।’
ভারতভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাইবার মিডিয়ার রিসার্চের (সিএমআর) গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে স্থানীয় ব্র্যান্ডের বাজার সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে স্মার্টফোনের পাশাপাশি রয়েছে সাধারণ ফিচার ফোন। ফিচার ফোনের চাহিদা বেশি থাকলেও স্মার্টফোনের চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক। তিনি জানান, স্মার্টফোন ব্যবহারকারী বাড়ানো হলে মুঠোফোনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত এগিয়ে যাবে।
সিএমআরের ভারত ও সার্ক অঞ্চলের মোবাইল ডিভাইস বিভাগের প্রধান বিশ্লেষক তরুণ পাঠক প্রথম আলোকে জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে থ্রিজি সুবিধা চালু হওয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে অন্য সেবার মধ্যে অর্থের বিনিময়ে সেবার (ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস-ভাস) সুবিধা বাড়বে। তিনি জানান, বাংলাদেশে মোট মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে সাত কোটি নতুন ব্যবহারকারী। শহর অঞ্চলে শতভাগ মোবাইল ব্যবহার করছে এবং গ্রাম অঞ্চলেও মোবাইল ব্যবহার বাড়ছে।
কেন ব্যবহার বাড়ছে?
ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে যেসব সুবিধা প্রতিনিয়ত পাওয়া যায় তা পেতে মূলত স্মার্টফোনে ঝুঁকছে সবাই। বিশেষ করে বিদেশে থাকা পরিবারের কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্র হিসেবে মুঠোফোন ইন্টারনেটে বিনা মূল্যে কথা বলার সুযোগ বাড়ছে। এ ছাড়া বিনা মূল্যে বার্তা আদান-প্রদান, ভিডিও চ্যাট, ছবি তোলা ও শেয়ার করা এবং ভিডিও দেখার মতো বিষয়গুলোতেও আগ্রহী করে তুলছে ব্যবহারকারীদের। কম দামের অ্যান্ড্রয়েড চালিত স্মার্টফোন বাংলাদেশে চালু হওয়ায় মুঠোফোন ব্যবহার বাড়ার বড় একটি কারণ বলে জানালেন রেজওয়ানুল হক।
বিস্তৃতি ও ব্যবসা
মুঠোফোন ব্যবহারের কারণে এখন আর শহর কিংবা গ্রামকে আলাদা করা কঠিন। এ খাতে বাড়ছে ব্যবসাভিত্তিক কার্যক্রম ও সম্ভাবনাও। স্থানীয়ভাবেও এখন মুঠোফোনে কারিগরি সমস্যার সমাধান, আনুষঙ্গিক পণ্য বিক্রিসহ নানা ধরনের কাজে যুক্ত হচ্ছেন তরুণেরা। গান শোনা, ভিডিও দেখার মতো বিনোদন পাওয়া যায় এমন ব্যবস্থাগুলোও এখন ব্যবসার মাধ্যম হয়ে উঠেছে। শুধু মোবাইল ফোনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েও অনেকেই হয়ে উঠছেন সাবলম্বী। মুঠোফোনে লেনদেনকে ঘিরে নতুন উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন অনেকেই।
রয়েছে সম্ভাবনা
সবচেয়ে বড় একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে রয়েছে অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ। এটি স্মার্টফোনের বিভিন্ন কাজ করার জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রাম দিয়ে তৈরি বিশেষ প্রযুক্তি। বর্তমানে বিশ্বে ১২০ কোটি মানুষ অ্যাপ ব্যবহার করছে। বছরে তা বৃদ্ধির হার ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৭ সালের মধ্যে অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৪০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশেও বেড়েছে অ্যাপ তৈরির কাজ। ফলে একে ঘিরে তথ্যপ্রযুক্তির একটি নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন আয়ের সুযোগ। সরকারি ও বেসরকারিভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গেম, সংবাদ, সোশ্যাল মিডিয়া বা বিনোদনের জন্য তৈরি হচ্ছে অ্যাপ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সব থানার ঠিকানা, ফোন নম্বর, থানার অবস্থা ইত্যাদি নিয়ে বিশেষ অ্যাপ চালু করেছে। এ ছাড়া সারা দেশের সব পুলিশের নম্বর নিয়ে তৈরি হয়েছে অ্যাপ। এতে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের নম্বর পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকার বাইরের একজন শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন সব ফায়ার সার্ভিসের গুরুত্বপূর্ণ নম্বর নিয়ে অ্যাপ। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে নিজস্ব অ্যাপস সুবিধা থাকায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সেমিস্টারের ফলাফল জানতে পারছেন। সরকারিভাবে ইতিমধ্যে সব মন্ত্রণালয়ের অ্যাপস তৈরির ব্যাপারেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটর অব বাংলাদেশের মহাসচিব টি আই এম নূরুল কবির প্রথম আলোকে জানান, মুঠোফোন বাংলাদেশে বড় একটি সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে এর অগ্রগতি।
দরকার বহুমুখী সেবা
কেবল অ্যাপস তৈরিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে মুঠোফোনের কনটেন্টের (সেবা) দিকে নজর দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত বলে মনে করেন আনন্দ কম্পিউটার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে পরিকল্পনাহীনভাবে এগিয়ে চলছি। থ্রিজি সুবিধা আসার পর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। এখনো আমরা মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ই-মেইল আদান-প্রদান, ফেসবুক, ভিডিও দেখা আর গেমস খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছি। এর বাইরে শিক্ষা এবং বিনোদন নিয়ে আরও কনটেন্ট হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
কিন্তু কনটেন্ট তৈরি ও তার বাজার নিয়ে এখনো দেশে জটিলতা রয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের সভাপতি শামীম আহসান। তিনি জানান, এ ক্ষেত্রে আদর্শ ব্যবসায়িক-বাজারব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারিভাবেও কনটেন্ট তৈরির ব্যাপারে কাজ করা উচিত।
শহর ও গ্রামে মোবাইল
ঢাকা থেকে একদল স্বেচ্ছাসেবক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজনে গিয়েছিল টাঙ্গাইল জেলায়। অনুষ্ঠান শেষ হতেই পুরো আয়োজনের ছবি ফেসবুকে দিল তারা। শহরে এখন এমন সুবিধা হরহামেশাই তরুণেরা ব্যবহার করে। পিছিয়ে নেই গ্রামের সাধারণ মানুষও। নিয়মিত প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন কুড়িগ্রামের কুলছুম বেগম। দুই সন্তানও নিয়মিত বাবার সঙ্গে যোগযোগ রাখে। শুধু এর মধ্যেই আবার সীমাবদ্ধ নন কুমিল্লার ডলি আক্তার। প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে নিজের মুঠোফোন থেকেই কথা বলা এবং মাঝেমধ্যে ভিডিও চ্যাট করেন তিনি। জানালেন, কথা বলার বাইরে ফেসবুক কিংবা স্কাইপ দিয়ে ছবি শেয়ার করি। প্রবাসী স্বামী ফেসবুকেই সেসব ছবি দেখতে পারেন আবার নিজের ছবিও প্রকাশ করেন। ঢাকায় পড়াশোনা করা ছেলের সঙ্গেও স্কাইপ ব্যবহার করে কথা বলেন তিনি।
টেলিমেডিসিন সেবা ও মুঠোফোনভিত্তিক কার্যক্রম
শুধু কথা বলা, ছবি শেয়ার কিংবা ভিডিও চ্যাটই নয়, বর্তমানে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান টেলিমেডিসিন সেবাও দিচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ফোনে রোগীরা নিজেদের সমস্যার কথা জানান, অপরপ্রান্তে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে ব্যবস্থাপত্র ই-মেইলে পাঠিয়ে দেন। গ্রামে বসেই এসব টেলিমেডিসিন সেবার পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের সুবিধা দিচ্ছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সরখাল গ্রামের চিকিৎসক রিয়াজুল হক। তিনি জানালেন, অনেকেই মুঠোফোনে চিকিৎসাসংক্রান্ত নানা সমস্যার কথা জানান। আবার ফোনেই প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যাপারে তথ্য নেন।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেই কৃষকেরা বর্তমানে মুঠোফোনে বিভিন্ন পোকার আক্রমণ কিংবা সমস্যার ছবি তুলে রাখেন। এমন সমস্যার কথা শুনে অভিজ্ঞরা সমাধান দেন বলে জানালেন উইন ইনকরপোরেটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাশফিয়া আহমেদ। তিনি জানান, ‘কৃষিবিষয়ক একটি মুঠোফোন সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে আমরা কৃষকদের এ সুবিধার বিষয়টি দেখতে পেয়েছি। কৃষিবিষয়ক নানা সমস্যা নিয়ে ইতিমধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে নিজেদের তথ্যভান্ডার (ডেটাবেস)।এ থেকেই সমাধান দেওয়া সহজ হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফরম কেনা এবং টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টিও মুঠোফোনেই করা যাচ্ছে।
Subscribe to:
Posts (Atom)

